Eastern Insight Logo

কৃষি অর্থনীতির বন্ধু মেছো বিড়াল: এক জীবনে ৫০ লক্ষ টাকার ফসল রক্ষাকারী এক নীরব প্রহরী

প্রকাশ :
কৃষি অর্থনীতির বন্ধু মেছো বিড়াল: এক জীবনে ৫০ লক্ষ টাকার ফসল রক্ষাকারী এক নীরব প্রহরী

মেছো বিড়ালের গুরুত্ব সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে এর পরিবেশগত ভূমিকার মধ্য দিয়ে। এরা মূলত অসুস্থ মাছ, ব্যাঙ, কাঁকড়া, সরীসৃপ, ইঁদুর, ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী ও বিভিন্ন কীটপতঙ্গ শিকার করে। এর ফলে জলাভূমি ও কৃষি পরিবেশে শিকারি–শিকার প্রজাতির মধ্যে একটি স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় থাকে। এই ভারসাম্যই বাস্তুতন্ত্রের স্থিতিশীলতার ভিত্তি। বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবন, কৃষি অর্থনীতি ও প্রকৃতির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে অসংখ্য বন্যপ্রাণী। কিন্তু মানুষের অজ্ঞতা, ভয় ও ভুল ধারণার কারণে বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী আজ বিপন্নতার মুখে। সেই প্রাণীগুলোর মধ্যে মেছো বিড়াল (Prionailurus viverrinus) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রজাতি, যার ভূমিকা শুধু জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেই নয়, বরং কৃষি অর্থনীতি, জলাভূমি সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তন ও খাদ্যনিরাপত্তার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সরাসরি কৃষি উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত না হলেও মেছো বিড়াল একটি জীবনে গড়ে ৫০ লক্ষ টাকার বেশি মূল্যের ফসল রক্ষা করে—এই তথ্যই প্রমাণ করে, এটি প্রকৃত অর্থেই কৃষি অর্থনীতির নীরব বন্ধু। মেছো বিড়াল একটি মধ্যম আকৃতির বন্য বিড়াল প্রজাতি, যা মূলত জলাভূমি, প্লাবনভূমি, বিল, হাওর, বাওড়, জলা, খাল ও জলাশয়কেন্দ্রিক পরিবেশে বসবাস করে। অন্যান্য বিড়ালের তুলনায় এদের জীবনধারা ভিন্ন; এরা সাঁতারে দক্ষ, মাছ শিকার করতে সক্ষম এবং জলজ পরিবেশের সঙ্গে গভীরভাবে অভিযোজিত। বাংলাদেশের জলাভূমি অঞ্চল, হাওরাঞ্চল, গঙ্গা-প্লাবনভূমি, সুন্দরবন, নদীতীরবর্তী এলাকা ও ধানক্ষেতসংলগ্ন জলাভূমি এদের প্রধান আবাসস্থল। একসময় এসব অঞ্চলে মেছো বিড়াল তুলনামূলকভাবে প্রচুর থাকলেও বর্তমানে আবাসস্থল ধ্বংস, জলাভূমি ভরাট, খাদ্য সংকট এবং মানুষের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান দ্বন্দ্বের কারণে এদের সংখ্যা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে।

শেয়ার করুন: